| জেলা প্রশাসনের পটভূমি |
|
ঔপনিবেশিক আমলে বিভাগ,জেলা ও থানাকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে সৃষ্টি করে। বৃটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বোর্ড অব ডাইরেক্টরস ১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে দেশীয় দেওয়ানের বিলোপ করে কালেক্টরকে সহানীয় প্রশাসনের সহায়ী ইউনিট করার সিদ্ধামত গ্রহণ করে এবাং রাজস্ব প্রশাসন, সিভিল জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট ইত্যাকার অফিসকে কালেক্টরের অফিসের সাথে সম্পৃত্তু করার জন্য সুপ্রীম কাউন্সিলকে নির্দেশ প্রদান করে। উত্তু আদেশের প্রেক্ষিতে, মেকপারসন (Macpherson) ১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে বংগ প্রদেশকে ৩৬ টি জেলায় বিভত্তু করে প্রত্যেক জেলায় একজন কালেক্টর নিয়োগ করেন। ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে কালেক্টরকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব, ম্যাজিস্ট্রেসী ক্ষমতা প্রদান ও রাজস্ব আদায়ের সার্বিক দায়িত্ব দেয়া হয় । ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে কালেক্টরকে ফৌজদারী বিচার নিস্পত্তির ক্ষমতা অর্পণের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট নামকরণ করা হয় এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়। জেলা জজ এর আদালতকে দায়রা আদালত এবং কলিকাতার দেওয়ানী আদালতকে আপীল আদালত হিসেবে নামকরণ করা হয়। বিভাগীয় কমিশনারকে রাজস্ব মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপীল আদালত হিসেবে রাখা হয়। কালত্রুমে জেলা পর্যায়ে অন্যান্য বিভাগীয় অফিস সৃষ্টি করা হয়। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে স্যার জর্জ ক্যামবেল (Campbell),জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর ক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করেন।
এ সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টরকে জেলা পর্যায়ে অন্যান্য বিভাগীয় অফিসের কাজকর্মের তত্তববধানের ক্ষমতা প্রদান করার মাধ্যমে তাঁকে জেলা পর্যায়ের প্রধান নির্বাহী ও প্রশাসক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাকিসতান সৃষ্টি হবার পর থেকে সমগ্র দেশকে বিভাগ,জেলা ও মহকুমা এবং থানা পর্যায়ে প্রশাসনিক ইউনিটে রতপামতর করা হয। এ সময় জেলা প্রশাসন শত্তিুশালী ইউনিট হিসেবে আতণপ্রকাশ করে। কালেক্টর/জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/ডেপুটি কমিশনার জেলার প্রধান নির্বাহী হিসেবে পুলিশ সুপার ও অন্যান্য কর্মকর্তার উপর তদারকী ও সমন্বয়মূলক ভূমিকা পালন করে আসছেন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ বিভাগ,জেলা মহকুমা ও থানা প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে বহাল থাকে এবং জেলা প্রশাসন শত্তিুশালী ইউনিট হিসেবে আতণপ্রকাশ করে। জেলা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/কালেক্টর/জেলা প্রশাসক জেলার রাজস্ব আদায়,আইন শৃঙ্খলার সার্বিক দায়িত্ব ও ফৌজদারী বিচার প্রশাসনসহ আমত:বিভাগীয় কাজের সমন্বয় সাধন করেন।
|